ইসলামিক বিবাহে লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়
শরীয়াতে ইসলামিক বিবাহ সম্পর্কে এতটুকু বলা হয়েছে যে ছেলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী দেনমোহর দিবে এবং স্ত্রীর সাথে দেখা হয়ে যাওয়ার পরে রিলেটিভ, বন্ধু-বান্ধব, প্রতিবেশীদের ওলীমা খাওয়াবে।
বিবাহের খরচ এই দুটিই এবং দুটিই ছেলের দায়িত্বে। আর স্ত্রীর ভরন-পোষনের দায়িত্ব তো আছেই।
সুতরাং থাকার জন্য একটা ঘর এবং পরার জন্য কাপড়-চোপড়,আর খানা-পিনার ব্যবস্থা করতে হবে।রাসূলে আকরাম সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার স্ত্রীদের জন্য থাকার ঘর,খাওয়া পরার জন্য খাদ্য,কাপড় ইনসাফের সাথে দিয়ে গেছেন। শরীয়তে মোহরের কোনো নিদিষ্ট পরিমান নেই।প্রত্যেকে নিজের সাধ্য অনুযায়ী মোহর ধার্য করবে।মোহরের সর্বনিম্ন পরিমান হছে আড়াই ভরি রুপার দাম।যার বর্তমান বাজার মূল্য পাচশত টাকা(ঈসায়ী-১৯৯৯)।
আমাদের সমাজে যে প্রথা চালু হয়ে গেছে,ছেলের সামর্থ থাক বা না থাক দুই লাখ,পাঁচ লাখ,সাত লাখ এরকম একটা কিছু নির্ধারন করা হয়।শরীয়তের দৃষ্টিতে এটি জায়েজ নায়।হাদিস শরীফ বর্নিত হয়েছে,কেউ যদি এই নিয়তে মোটা অংকের মোহর নির্ধারন করে যে,এর দ্বারা তার সম্মান বৃদ্ধি পাবে কিন্তু তা আদায় করার নিয়ত না থাকে তাহলে তা মারাত্মক অপরাধ হিসেবে গন্য হবে।কানযুল উম্মালের একটা হাদিসে বর্নিত আছে,ঐ ব্যাক্তি ব্যাভিচারীর কাতারে উঠবে এবং ঐ অবস্থায় আল্লাহ পাকের সামনে তাকে হাজির করা হবে।(১৬/৫৪২)
স্ত্রীর নিকট থেকে যদি মোহর মুখে মাফ করিয়ে নেওয়া হয় এবং এর জন্য যদি পলিসি অবলম্বন করা হয় তাহলে জায়েজ হবেনা।তাছাড়া মৌখিক মাফ অধিকাংশ লৌকিকতার কারনেই হয়ে থাকে।আর এটা পুরুষের আত্মমর্যাদা বোধের পরিপন্থী।তবে কোনো স্ত্রী যদি আন্তরিক সন্তুষ্টির জন্য মাফ করে দেয় তবে ভিন্ন কথা।
মোহরের মধ্যে বিবির সসম্মতিতে শুধুমাত্র অলংকারকে শামিল করা যাবে।তবে বিবাহের সময়ে বা পরে যদি মোহরের টাকা থেকে অলংকার দান করা হয় তাহলে স্ত্রীকে সেটা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে স্ত্রীর সম্মতি নিতে হবে যে,এটা মোহরের টাকা থেকে দেওয়া হচ্ছে।দেওয়ার সময় কিছু না বলে পরে বলা যে,ওটা মোহর থেকে দিয়েছে,এটা খুব অন্যায় কথা। পাএ পক্ষের লেনদেন এর আরেকটি বিষয় হচ্ছে ওলিমা।ওলিমা সুন্নাত।বিবাহের পর পাএপক্ষ এর ব্যবস্থা করবে।ছেলে নিজের সামর্থ অনুযায়ী ওলিমার ব্যবস্থা করবে।কারো সামর্থ থাকলে ছাগল জবাই করে খাওয়াবে,তা না পারলে মুরগী কেটে খাওয়াবে আর তাও না পারলে অন্তত মিষ্টি মুখ করাবে।ওলীমা পেট পুরে খাওয়াতে হবে এমনটা জরুরী নয়।আর এতে কোনো ধার-কর্জের অনুমতি নেই।মোট কথা মোহর ও ওলিমা দুটিই লেন-দেন এর অংশ।আর উভয়টিই ছেলের জিম্মায়।(মিশকাত শরীফ-২৭৮)
প্রচলিত আরেকটা লেনদেন পাএ পক্ষ অন্যায় ভাবে পাএী পক্ষের উপর চাপিয়ে দেয় যেটাকে যৌতুক বলা হয়।ছেলেকে ঘড়ি,মোটরসাইকেল,জাহান্নামের বাক্স(টিভি)ইত্যাদি দেওয়াত দাবি করা হয়।মেয়ের বাপের উপর চরম জুলুম করে আদায় করা হয়।অথচ হাদিস শরীফে ইরশাদ হচ্ছে,কোনো মুসলমানের মাল তার আন্তরিক সন্তুষ্টি ব্যাতিত নিলে তা হালাল হবে না।(মিশকাত শরীফ-২৫৫)
আবারো পাএ পক্ষ দাবী করে যে,বরের সাথে বরযাএী হিসেবে ৫০/১০০ জন লোক আসবে,খানাপিনার ব্যবস্থা করতে হবে।শরীয়তে এটা না জায়েজ।(ফাতাওয়া মাহমুদিয়া-৭/৩১৮)

0 মন্তব্যসমূহ